বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কথায় আছে কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ


কথায় আছে কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ । এই নতুন বেতন কাঠামোতে যারা সরকারী চাকুরীতে অধ্যায়নরত তাদের পৌষ মাস আর যারা সরকারী চাকুরীর অপেক্ষায় বা পদপ্রার্থী তাদের সর্বনাশ ।

নিশ্চয়ই মনে প্রশ্ন জাগছে সরকারী চাকুরির অপেক্ষায় থাকাদের কি ভাবে সর্বনাশ হলো?
উত্তর একদম সোজা । নরমালি আমাদের দেশে ঘোষ বিহীন কোন সরকারী চাকুরি হয়না (যদিও এখন কিছু কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ও নতুন চাকুরীর ক্ষেত্রে ঘোষের প্রচলন চালু হয়ে গেছে) । আগে যে পোষ্টের চাকুরীর জন্য যে পরিমান ঘোষ লাগতো এখন বেতন দিগুণ হওয়ায় নিশ্চয়ই নতুন চাকুরী প্রত্যাশীদের ঘোষ ও দিগুণ গুনতে হবে ।
এখন বর্তমান সরকারকে সবাই বাহ বাহ দিয়ে বড়িয়ে দেবে । নিশ্চয়ই সরকার বাহ বাহ পাওয়ার মতোই একটা কাজ করেছে সরকারী বেতন দিগুণ করে । এখানে আমিও সবার মতো খারাপ কিছু দেখিনা । সরকারের এই নিদ্ধান্তকে আমিও সবার মতো অভিনন্দন জানাই ।


আমার আপত্যি তো অন্য জায়গায় । নিশ্চয়ই তা আপনারা ও বুঝে নিয়েছেন আমার আপত্যিটা কোথায়? যা আগেই উপরে আলোচনা করেছি  হ্যা আমি তার উপরেই আমার আপত্যি পেশ করছি। হয়তো আমার সাথে সবাই একমত হবেননা । তবুও বক বক করে আপনাদের কিছুটা সময় নষ্ট করার জন্য আমি আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।
আমাদের দেশে সরকারী চাকুরী নেওয়া মানে লক্ষ লক্ষ টাকার ঘুষ নামক শুভেচ্ছে বিনিময় করতে হয় চাকুরী দাতাদের সাথে । যে যতো বেশি পরিমানের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তার সরকারী চাকুরী পাওয়া ততোটাই নিশ্চিত । আর যারা কোন পরিমান শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারেননা তাদের ব্যাংক ড্রাফটের টকার সাথে মেধা যোগ্যতা পরিশ্রম সবই বৃথা যায় ।

তাই শুভেচ্ছা বিনিময়ের সামর্থহীন বুদ্ধিমানরা সরকারী চাকুরীর আবেদন ফর্ম  এর সাথে একশ বা দেরশ টাকার ব্যাংক ড্রাফ এর ঝুঁকি নেননা । কারন এই ড্রাফটের টাকাটাই বৃথা যাবে বলে । আর এই বৃথা যাওয়ার ভয়েই তারা সরকারী চাকুরীর আবেদন করেননা।

আমাদের দেশে কবে কি ভাবে কোথায় থেকে সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে ঘুষের প্রচলন চালু হয়েছে তা হয় তো আমার মতো আপনাদের ও জানা নেই । কিন্তু এই ঘুষ প্রথা বন্দ করার মতো আমাদের অনেক কলা-কৌশল জানা বা শিখা আছে । দুঃখের বিষয় এই কৌশল গুলি কাজে লাগানোর মতো ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই । লজ্জার বিষয় যাদের হাতে এই কৌশল গুলি ব্যবহারের ক্ষমতা আছে তারাই এই ঘোষের ভোগকারী ।

সো কি আর করার সরকারী চাকুরি পেতে হলে ঘোষ দিয়েই চাকুরী নিতে হবে মেধা দিয়ে নয় । যেহেতু বেতন দিগুণ হয়েছে সেহেতু ঘুষ ও এখন থেকে দিগুণ দিতে হবে । না হয়  ব্যাংক ড্রাফটের টকার সাথে মেধা যোগ্যতা পরিশ্রম সবই বৃথা যায় ।  সামর্থহীন বুদ্ধিমান হোন অন্তত ব্যাংক ড্রাফটের এক দেড়শ টাকা তো বেচে তো যাবেই ।

কোন মন্তব্য নেই: